সাতক্ষীরায় ১২ লাখ টাকায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস || AndNewsBD

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ২২ সদস্যকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সাতক্ষীরায় ১২ লাখ টাকায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস  AndNewsBD

এরা ১২ লাখ টাকা চুক্তিতে একেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছে বলে জানায় র‌্যাব। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পাঁচজন রয়েছেন প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূল ৫ হোতা, ১৬ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে দুইজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও দুইজন শিক্ষক আছেন।

এর আগে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে কলারোয়া থানার পার্শ্ববর্তী সোনালী সুপার মার্কেটে অবস্থিত কিডস কোচিং সেন্টারের ব্লাক বোর্ডে ফাঁসকৃত প্রশ্ন পত্রের উত্তর লিখে দেয়ার সময় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের ৫ হোতাসহ ২১ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। লক্ষ্মীপুর থেকে আরও একজনকে আটক করে পুলিশ। পরে যাচাই-বাছাই শেষে দুই জেলাতেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাতক্ষীরায় ২১ জনকে ও লক্ষ্মীপুরে একজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত প্রশ্ন পত্র ফাঁস চক্রের মূল ৫ হোতারা হলেন : কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পরানখালি গ্রামের মৃত আহসান আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম (৩৯), কলারোয়ার কীডস ক্লাব কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও জনতা ব্যাংক সেনেরগাতি শাখার ম্যানেজার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাটা গ্রমের আব্দুল আজিজের ছেলে আফতাবুজ্জামান (৩৫), একই গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে রামচন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিরুল ইসলাম (৩৫), আশাশুনি উপজেলার চেউটিয়া গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে কৃষি ব্যাংক কলারোয়া শাখার অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম (৩৫), ও একই উপজেলার কাকবাশিয়া গ্রামের মোঃ রইছ উদ্দীনের ছেলে স্কুল শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। 

দণ্ডপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীরা হলেন, আশাশুনি উপজেলার কুন্দড়িয়া গ্রামের দুলাল ঘোষের ছেলে সুমেন্দ্র ঘোষ (৩০), একই উপজেলার লাউতাড়া গ্রামের পরিমল সরকারের ছেলে সন্নাসী কুমার সরকার (২৮), কাকবাসিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে রিয়াছাদ আলী (২৯), চেউটিয়া গ্রামের  ওহাব সানার ছেলে দিদারুল ইসলাম (৩০),  প্রতাপনগর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে সাইফুল্লাহ (২৯), মহিষকুড় গ্রামের গোলাম রব্বানীর স্ত্রী  নাজমুন নাহার (২৯), কল্যাণপুর গ্রামের মিন্টু গাজীর স্ত্রী রাবেয়া (২৫), চেউটিয়া গ্রামের আইয়ুব হোসেনের স্ত্রী সেলিনা খাতুন (২৬), তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের আসলাম হোসেনের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা (২৬) ও গোকুলনগরের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন (২২), সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাছিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র ঘোষের ছেলে বিশ^জিৎ ঘোষ (৩০), রসুলপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মুস্তারিয়া (২১), শ্যামনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের স্ত্রী সানজিদা বকুল (১৯), একই গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজুর রহমান (২৭), নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুল হালিম (২৩) ও আব্দুল জলিল গাজীর ছেলে হুমায়ুন কবীর (২৭)।

র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল সৈয়দ মোঃ নুরুস সালেহীন ইউসুফ শুক্রবার দুপুর ২টায় সাতক্ষীরা ক্যাম্পে প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে, ঢাকায় বসে একটি প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্র ১২ লাখ টাকার চুক্তিতে তাদের কাছে মোবাইল ফোনে প্রশ্ন ও তার উত্তর বলে দেবে। এজন্য সিন্ডিকেটের হাতে অগ্রিম পাঁচ লাখ টাকা দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। বাকি টাকা পরীক্ষা শেষে দেয়ার কথা। এমন সংবাদের ভিত্তিতে কলারোয়া থানার পার্শ্ববর্তী সোনালী সুপার মার্কেটে অবস্থিত কিডস কোচিং সেন্টারের অভিযান চালিয়ে ৭ নারীসহ ২৮ জনকে আটক করা হয়। প্রশ্ন ও উত্তর ব্লাক বোর্ডে লিখে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তারা সেখানে জড়ো হয়ে রাত্রিযাপন করে। রাতভর এবং সকালে মোবাইল ফোনে তাদের কাছে আসা প্রশ্নপত্র ব্লাকবোর্ডে লিখে সাথে সাথে তার উত্তরও নির্দেশ করা হতে থাকে। অংশগ্রহণেচ্ছুরা তা শিখে নিতে থাকেন। 
তিনি আরো বলেন, প্রতারক চক্রটির কাছ থেকে যে প্রশ্নপত্র উদ্ধার করা হয়েছে তার সাথে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মূল প্রশেরœ হু-বহু মিল পাওয়া গেছে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তালা উপজেলার ধানদিয়া এলাকা থেকে আব্দুল হালিম নামের এই চক্রের আরো এক হোতাকে আটক করা হয়। এনিয়ে মোট ২৯ জনকে আটক করে র‌্যাব। এর মধ্যে ২১ জনকে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের প্রত্যেককে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। বাকী ৮ জনের (অভিভাবক) বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ না পাওয়ায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়

এদিকে, শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার সময় লক্ষ্মীপুর জেলা পলিটেকনিক কলেজের শিক্ষক রেজাউল করিম জেনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে আটক করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনএসআইয়ের তথ্যের ভিত্তিতেই এই শিক্ষককে আটক করা হয়। তাকে দুই বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
চার ধাপের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রথমধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার। দ্বিতীয়ধাপের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মে। তৃতীয় ধাপ ২১ জুন ও চতুর্থধাপের পরীক্ষা ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

No comments

Powered by Blogger.