খুলনাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এরশাদ | AndNewsBD

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ খুলনাবাসীর উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) স্থাপন করেছিলেন। এ কারণে খুলনাবাসীর কাছে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি।
খুলনাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এরশাদ | AndNewsBD


রাষ্ট্রপতি থাকাকালে এইচ এম এরশাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেন এবং ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে তার নাম চির অম্লান হয়ে আছে।

এদিকে এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।

খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক প্রবীণ সাংবাদিক একে হিরু বলেন, ১৯৭৪ সালে ড. কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে খুলনা বিভাগে উচ্চ শিক্ষার্থে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু তা বাস্তবায়নে তৎকালীন সরকার গড়িমসি করতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়েই উচ্চ শিক্ষার জন্য খুলনাবাসী আন্দোলন করতে শুরু করেন। সেই আন্দোলনের মুখে ১৯৭৯ সালের ১০ নভেম্বর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা খুলনায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

খুলনাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এরশাদ | AndNewsBD
এইচ এম এরশাদ প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অধ্যাদেশ ৫(১) জি ধারা অনুযায়ী খুলনা বিভাগে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ১৯৮৩ সালে সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় এবং ১৯৮৭ সালের ৪ জানুয়ারি এক গেজেটে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৯ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একই বছরের ১ অগাস্ট বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানকে প্রকল্প পরিচালক এবং পরে প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।

১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংসদে পাস হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর একাডেমিক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
খুলনাবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এরশাদ | AndNewsBD
এরশাদের খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এখন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

প্রথম বছর মোট চারটি ডিসিপ্লিনে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া সাবেক এই রাষ্ট্রপতি খুলনাসহ আশপাশের জেলার লোকজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর বয়রায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। যা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত।

এইচ এম এরশাদের এসব অবদান খুলনাবাসী কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে চিরকাল।

No comments

Powered by Blogger.