খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে শ্রমিক উত্তেজনা || AndNewsBD
খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোতে শ্রমিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
প্রতিশ্র“ত বকেয়া মজুরি না পেয়ে শ্রমিকরা গতকাল বুধবার পাটকলগুলোর প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। সকাল থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, স্টার, প্লাটিনাম ও পিপলস্ পাটকলের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এর আগে সকালে কয়েকটি মিলের উৎপাদন শ্রমিকরা বন্ধ করে দিলেও পরে তা’ আবারো চালু হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ সংকটের কারণে বকেয়া মজুরি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠকে তিনটি শর্তে শ্রমিক নেতারা এক সপ্তাহের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেন।
পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, ৯টি পাটকলে শ্রমিকদের ৯ থেকে ১২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মজুরি দেয়ার কথা। কিন্তু বিজেএমসি ও পাটকল কর্মকর্তারা কোন উদ্যোগ না নেয়ায় সকাল থেকেই পাটকলে উত্তেজনা দেখা দেয়। মজুরি না দেয়ায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকালে কয়েকটি মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। পরে মিলের উৎপাদন পুনরায় চালু হলেও দুপুরের পর থেকে ক্রিসেন্ট, স্টার, প্লাটিনাম ও পিপলস্ পাটকলের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে।
জানা যায়, এর আগে সকালে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করেন শ্রমিক নেতারা। কিন্তু সেখানেও বকেয়া মজুরি পরিশোধের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন জানান, সকালে শ্রমিকরা মজুরির দাবিতে মিলের প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও করে রাখে। পরে তারা ফের কাজে যোগদান করে। শ্রমিকদের মজুরি দেয়ার প্রতিশ্র“তি দেয়া হলেও তার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। অবিলম্বে তিনি শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও শ্রমিকদের মজুরি দেয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে অভুক্ত শ্রমিকরা মিলের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করেন। মজুরি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মিলের কোন কর্মকর্তা মিলে প্রবেশ বা মিল থেকে বের হতে পারবে না। জানা যায়, প্রায় চার ঘন্টা অবরুদ্ধ থাকার স্টার, প্লাটিনাম ও পিপলস্ পাটকলের কয়েকজন কর্মকর্তা মিল থেকে বের হলেও ক্রিসেন্ট জুট মিলের কর্মকর্তারা বিকেল ৫টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিল।
বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, ২১ মে জেলা প্রশাসনের বৈঠকে দুই সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধে আমাদেরকে (বিজেএমসি) চেষ্টা করতে বলা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন মিলগুলো বন্ধ ছিল। সেখানে উৎপাদন নেই, আমাদের কাছেও কোন টাকা নেই। অর্থ সংকটের কারণে শ্রমিকদের মজুরি দেয়া সম্বব হচ্ছে না। তিনি বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে খুলনা-যশোর অঞ্চলের নয়টি পাটকলের প্রশাসনিক কার্যালয় ঘেরাও করে উত্তেজিত শ্রমিকরা। একই সাথে পাটকল কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কয়েকটি মিলে উত্তেজনা কিছুটা শিথিল হয়েছে।
উল্লেখ্য, খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলে শ্রমিকদের মজুরি ও কর্মকর্তাদের বেতন বকেয়া রয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বকেয়া মজুরি পরিশোধসহ ৯ দফা দাবিতে গত ৫ মে থকে ধর্মঘট ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন শ্রমিকরা। তবে চলতি সপ্তাহের মধ্যে দুই সপ্তাহের বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাসে ২১ মে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে।

No comments