পাইকগাছায় চিকিৎসকের অবহেলায় মেধাবী স্কুলছাত্রের মৃত্যু : তদন্ত কমিটি গঠন || AndNewsBD

পাইকগাছায় চিকিৎসকের অবহেলায় মেধাবী  স্কুলছাত্রের মৃত্যু

পাইকগাছায় চিকিৎসকের অবহেলায় মেধাবী  স্কুলছাত্রের মৃত্যু : তদন্ত কমিটি গঠন ||  AndNewsBD


পিতা মাতার একমাত্র ছেলে মোস্তফা শাহারিয়ার রহমান শুভ পাইকগাছার রাড়–লী ইউনিয়নের শহিদ কামরুল মেমোরিয়াল হাই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ছিল। জ্বর বমি নিয়ে কয়েকদিন অসুস্থ থাকায় গত বুধবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে পিতা মাতা তাকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে শুভ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

স্বজনদের অভিযোগ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের চরম অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃতের স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে খবর পেয়ে সকালেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না, ওসি এমদাদুল হক শেখ ও ওসি (তদন্ত) রহমত আলী। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


জানা গেছে, উপজেলার রাড়–লী ইউনিয়নের আরাজী ভবানীপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের একমাত্র ছেলে শুভ জ্বর ও বমি নিয়ে গত বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। নিহতের মা শাহিদা বেগম জানান, সারা রাত শুভ’র পাশেই আমি ছিলাম। রাতে শুভ’র পিতা ডাক্তারকে বারবার ডেকেছে। কিন্তু ডাক্তার ভর্তি করার সময় ছাড়া রাতের মধ্যে একবারও রোগীর কাছে আসেননি। শুভর চাচা স্কুল শিক্ষক কবির আহমেদ জানান, বারবার কর্তব্যরত চিকিৎসককে ডাকলেও তিনি আসেননি। সম্পূর্ণ চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আমার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের শাস্তির দাবি জানাই। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ সুজন কুমার সরকার জানান, রাতে ভর্তির সময় তাকে দেখে শুনেই চিকিৎসার ব্যবস্থা দেই।

এরপর সারারাত আমাকে কেউ কোন কিছু জানায়নি। পরে ভোর পৌনে ৬টার দিকে আউট সোসিং এর নাছিমা খাতুন আমাকে রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানায়। তাৎক্ষণিক ভাবে রোগীর কাছে গিয়ে আধা ঘন্টারও বেশি সময় ধরে সব ধরনের চেষ্টা করার পরও এক পর্যায়ে ভোর ৬.১০ মিনিটের দিকে তার মৃত্যু হয়। মেনিনজাইটিস, এনক্যাফালাইটিস ও সেপটিসোরিয়াস জনিত সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

এদিকে শুভ’র মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা হাসপাতালে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ও ওসি এমদাদুল হক শেখ এ সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন। ওসি জানান, উত্তেজনার খবর পেয়েই হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যার ফলে অস্বাভাবিক কোন ঘটনা ঘটেনি। নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না জানান, সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম মারুফ হাসান জানান, সকালেই আমি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত ছিলাম। রোগীর পরিবার ও তাদের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও চিকিৎসক ও নার্সদের কোন গাফিলতা আছে কিনা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তাৎক্ষণিক ভাবে ডাঃ নজরুল ইসলামকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী তিন কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান।

No comments

Powered by Blogger.